Health & Medical Blog

জানুন, কিভাবে প্রতিরোধ করবেন নীরব ঘাতক জরায়ুমুখ ক্যান্সার


uterus cancerবিশ্বে প্রতি ২ মিনিটে একজন নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে (Cervical Cancer) মৃত্যুবরণ করে এবং প্রতি বছর ৫০ লাখের অধিক নারী নতুন করে এই ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হন।জরায়ুর নিম্নভাগ যা ভেজাইনাতে সংযুক্ত হয় সেই অংশটিকে জরায়ু মুখ বলে। জরায়ু মুখের কোন কোষ অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি লাভ করলে এক ধরনের ক্ষতিকর টিউমার তৈরি হয় যা জরায়ু মুখ ক্যান্সার নামে পরিচিত।সাধারণত ৩৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সী মহিলাদের জরায়ু ক্যান্সার বেশি হতে দেখা যায়।এর প্রতিরোধ করা সম্ভব একটু সচেতন হলেই।

জরায়ু ক্যান্সার এর কারন :

  • প্রজননতন্ত্রের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা না করলে
  • ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার অভাবে
  • অল্প বয়সে বিয়ে করলে বা অল্প বয়সে দৈহিক মেলামেশা শুরু করলে
  • ঘন ঘন অধিক সন্তান ধারণ করলে
  • পুষ্টিহীনতা
  • হিউম্যান পেপিলমা ভাইরাসের কারণে ৯০ % -এরও বেশী মানুষ এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়
  • ক্লামাইডিয়া ভাইরাসে ইনফেকশনের কারনে
  • এইচ আই ভি সংক্রমণে

uterian cancer symptoms

জরায়ু ক্যান্সার এর লক্ষণসমূহ : cervical cancer symptoms : সাধারনত এই ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে কোন ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ প্রকাশ পায় না তবে অগ্রবর্তী পর্যায়ে যখন ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে তখন কিছু কিছু লক্ষণ দেখা দেয়।

  • যোনিপথে রক্তপাত
  • রক্ত মিশ্রিত গন্ধযুক্ত সাদাস্রাব
  • মাসিক অনিয়মিত হওয়া
  • দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তস্রাব যাওয়া
  • সংগম এর সময় ব্যথা অনুভব করা
  • তলপেটে ব্যথা অনুভব করা
  • মেনপজের পরেও নতুন করে রক্তক্ষরণ হওয়া

জরায়ু ক্যান্সার এর প্রতিরোধ :

প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা সম্ভব হলে সফল ভাবে জরায়ু মুখ ক্যান্সারের চিকিৎসা করা সম্ভব।অন্যান্য কান্সারের তুলনায় এই ক্যান্সার শনাক্ত করা সহজ। কারণ ডাক্তার অথবা স্বাস্থ্যকর্মী সহজেই জরায়ু মুখ দেখতে এবং পরীক্ষা করতে পারেন। রোগের চিকিৎসার পরিবর্তে প্রতিরোধ অর্থাৎ রোগটা হতে না দেয়াই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।

  • জরায়ু ক্যান্সাররের পূর্ব অবস্থা বুঝা যায় কিংবা ভবিষ্যতে ক্যান্সারেরআশংকা আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়। আর এ অবস্থা ধরা পড়লে সামান্যচিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে জরায়ু ফেলে দেওয়ারপ্রয়োজন হয় না; বরং চিকিৎসার পরও সন্তান ধারণ সম্ভব।
  • জরায়ু মুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে ১৮ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত নারীদের বছরে একবারকরে পরীক্ষা করা উচিত। তবে পর পর দুইবার রিপোর্ট নেগেটিভ হলে ৩ অথবা ৫ বছরপরপর পুনরায় পরীক্ষা করাবেন। ঝুঁকিপূর্ণ নারীরা ৩ বছর পর পর পরীক্ষাকরাবেন। তবে  ৪০ বছরের পর থেকে এই পরীক্ষা নিয়মিত করা উচিত।
  • বিভিন্ন স্ক্রিনিং টেস্ট যেমন প্যাপ স্মেয়ার টেস্ট, এইচপিভি টেস্ট, ভিস্যুয়াল ইন্সপেকশান অব সার্ভিক্স উইথ এ্যাসিটিক এ্যাসিড (ভায়া) টেস্টেরমাধ্যমে জরায়ু-মুখের ক্যান্সার সনাক্ত ও প্রতিরোধ সম্ভব।
  • বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বর্তমানে আমাদের দেশেও জরায়ু মুখেরক্যান্সারের টিকা পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই এই টিকাও রোগ প্রতিরোধে বেশকার্যকর। ১০ বছর বয়সের পর থেকেই এর প্রতিষেধক টিকা নেয়া যায়

 জরায়ু ক্যান্সার এর চিকিৎসা :

প্রাথমিক পর্যায়ে সনাক্ত করা সম্ভব হলে সফল ভাবে জরায়ু মুখ ক্যান্সারের চিকিৎসা করা সম্ভব। স্টেজের উপর ভিত্তি করে এর চিকিৎসা দেয়া হয়। সার্জারি, রেডিও এবং কেমোথেরাপি চিকিৎসা দেয়া হয়।এছাড়া রোগীর লক্ষণের উপর ভিত্তি করে এন্টিবায়োটিক, ব্লাড ট্রান্সফিউশন ইত্যাদি দেয়া হয়। প্রথম ও দ্বিতীয় স্টেজে সার্জারি করা সম্ভব হয়।তবে এর বেশি দেরি হলে সার্জারি করে লাভ হয় নাসেক্ষেত্রে কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে।

উপরোক্ত আলোচনা পর্যবেক্ষণ করে আমরা বলতে পারি জরায়ু ক্যান্সার নারীদের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। কাজেই রোগের চিকিৎসার পরিবর্তে প্রতিরোধ অর্থাৎ রোগটা হতে না দেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

 

(Visited 1,252 times, 1 visits today)

, , , , , , , , , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *