Health & Medical Blog

দেশে জিকা ভাইরাস শনাক্ত, গর্ভবতীরা সাবধান


zika-virusস্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে, চট্টগ্রামের এক ব্যক্তির রক্তে জিকা ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জিকার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর বাংলাদেশ সরকার আইইডিসিআর-এ সংরক্ষিত রক্তের নমুনা ফের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানেই মিলেছে জিকার অস্তিত্ব।

 স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, চট্টগ্রামে যে ব্যক্তির রক্তের নমুনায় জিকা ভাইরাস পাওয়া গেছে, তিনি ৬৭ বছর বয়সী একজন বৃদ্ধ। বর্তমানে তিনি সুস্থ আছেন।

 ঢাকার দুটি এলাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে সংগ্রহ করা এসব নমুনায় ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার ভাইরাস আছে কি না তা এর আগে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এডিস এজিপ্টি মশা ওই দুই রোগের জীবাণুর মতো জিকা ভাইরাসেরও বাহক।

 জিকা সনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ঢাকা থেকে চিকিৎসকদের একটি দলকে চট্টগ্রামের ওই এলাকায় পাঠানো হয়। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন, যাকে চিকিৎসা সমীক্ষার পরিভাষায় ‘কন্টাক্ট ট্র্যাকিং’ বলা হয়।

 চট্টগ্রামের ওই ব্যক্তি বছরখানেক আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার সময় তার রক্তের নমুনা নেওয়া হয়। চিকিৎসা নিয়ে তিনি সুস্থও হয়ে ওঠেন। তবে সে সময় জিকা নিয়ে হৈ চৈ শুরু না হওয়ায় এ ভাইরাসের পরীক্ষা তখন করা হয়নি।

 ১৯৪৭ সালে উগান্ডায় প্রথম জিকা ভাইরাস ধরা পড়ে। এতে সচরাচর মৃত্যুর ঘটনা দেখা যায় না। তবে এর লক্ষণও সবসময় স্পষ্ট থাকে না।

 মন্ত্রণালয় বলছে, মশা থেকে দূরে থাকতে হবে প্রত্যেক গর্ভবতী নারীকে। কারণ জিকা ভাইরাসে তার গর্ভের সন্তানের মস্তিষ্ক অপরিপক্ক থেকে যেতে পারে এবং শিশুর মাথা স্বাভাবিকের চেয়ে আকারে ছোট হতে পারে (মাইক্রোসেফালি)।

তবে এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। জিকা ভাইরাস ছোঁয়াচে নয়। তবে যৌন সংসর্গের মাধ্যমে জিকা সংক্রমণের কয়েকটি ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে সম্প্রতি ধরা পড়েছে।

 বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে জিকা নিয়ে এখনই শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ ঘটেনি। তবে এ ভাইরাস ঠেকাতে হলে মশা নিয়ন্ত্রণে জোর দিতে হবে।

 

(Visited 112 times, 1 visits today)

, ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *