Health & Medical Blog

এই গরমে হিট স্ট্রোক থেকে সতর্ক থাকুন


heat stroke risk sign হিট স্ট্রোক (Heat Stroke) বা সান স্ট্রোক প্রচন্ড গরমে বড় একটি সমস্যা। পর্যাপ্ত জ্ঞানের ও সাবধানতার অভাবে হিট স্ট্রোক হলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। হিট স্ট্রোক হচ্ছে দেহের তাপমাত্রা বৃদ্ধ্বি পেয়ে সৃষ্টি হওয়া এক প্রকার জটিলতা। স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা ৯৮ ফারেনহাইট। যদি এটি ১০৪ ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায় তখনি হিট স্ট্রোক হতে পারে। হিট স্ট্রোক এক প্রকার মেডিকেল ইমার্জেন্সি।

কারন (Heat stroke Causes)

হিট স্ট্রোকের প্রধান কারন Dehydration । অনেক সময়ে প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করলেও হিট স্ট্রোক হতে পারে। ছোট বাচ্চা, বয়স্ক লোক, ব্যায়ামবীর বা দিনমজুরদের হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটি খুবই ভয়াবহ, বাচ্চাদের দেহের তাপ নিয়ন্ত্রন করার সিস্টেম ডেভেলপড না হওয়ায় তাদের হিট স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেশি।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ:

হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার আগে সাধারণত মাথা ঝিম ঝিম করে। তখন কারো বমি বমি লাগতে পারে। এসময় শরীরের মধ্যে দূর্বলতা অনুভব হয়। শারীরিক অবসাদেও অনেকে আক্রান্ত হতে পারে। কখনো কখনো হিট স্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে মাংশপেশির খিঁচুনি হয়। কখনো চোখে ঝাপসা দেখা যায়। সাধারণ লক্ষণগুলো হল –

  • বমি বমি ভাব
  • ক্লান্তি
  • বমি করা
  • দুর্বলতা
  • মাথা ব্যাথা
  • মাসল ক্র্যাম্পস
  • অবসন্নতা
  • দেহের উচ্চ তাপমাত্রা
  • শ্বাসকষ্ট
  • ঘাম না হওয়া এবং ত্বকের বর্ণ লালচে হয়ে যাওয়া

হিট স্ট্রোকের প্রতিকার:

হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে রোগীকে প্রথমেই ঠান্ডা ও বায়ু চলাচল করে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে হবে।শরীরের ভারী কাপড় খুলে নিয়ে ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে।রোদ থেকে অবশ্যই দূরে রাখতে হবে। রোগীকে এয়ার কন্ডিশন্ড রুমে রাখতে পারলে ভালো হয়। হিট স্ট্রোক হলে দেহে পটাশিয়াম কমে যায় ফলে এক্ষেত্রে রোগীকে স্যালাইন দেয়া কার্যকরী।রোগীর বগল ও ঊরুর ভাঁজে বরফ দেওয়া যেতে পারে। একটি থার্মোমিটার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখুন এবং ১০১-১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে আসা না পর্যন্ত তাকে ঠান্ডা করা চালিয়ে যেতে হবে। গুরুতর অবস্থায় রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে নিতে হবে।

প্রতিরোধের উপায়:

এই প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে প্রচুর পরিমান পানি পান করতে হবে। পানির সাথে স্যালাইন, ডাবের পানি, ফলের সরবত পান করলে তা পানিশূন্যতা রোধে সাহায্য করবে। লাইট ফুড হ্যাবিটের অভ্যাস করুন। তাতে শরীর সব সময়ই খুব ভালো থাকে। রোদ এড়িয়ে চলাই ভাল তবে নিতান্তই যদি যেতে হয় তবে সাথে অবশ্যই ছাতা, টুপি বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন এবং সাথে যথেষ্ট পরিমান পানি রাখতে হবে। অনেকেই ভাবেন এসময় ফ্রীজের ঠাণ্ডা পানি বা আইস ক্রিম খেলে শরীর হয়তো ঠাণ্ডা হবে, কিন্তু খুব বেশী ঠাণ্ডা খেলে তাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। ঢিলেঢালা হাল্কা রঙের সুতির কাপড় পরিধান করুন।

(Visited 98 times, 1 visits today)

, , , ,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *